বৃষ্টিভেজা রাতে পুরোনো প্রেমের দেখা



👉link👈

👉 18+ Videos Watch Now 👈



বৃষ্টিভেজা রাতে পুরোনো প্রেমের দেখা

সারাদিন ধরেই আকাশটা ভারী ছিল। সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে বৃষ্টি নামল—নরম, ধীর, একটানা। জানালার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে শব্দ করছিল, যেন কেউ খুব আস্তে দরজায় কড়া নাড়ছে।

আরিফ চায়ের কাপ হাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বহুদিন পর আজ এই পাড়ায় আসা। সবকিছুই বদলে গেছে, শুধু এই বৃষ্টির গন্ধটাই যেন আগের মতোই আছে। ঠিক তখনই ফোনটা কেঁপে উঠল।

“তুমি কি এখনো এখানে?”
মেসেজটা দেখে বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে কেঁপে উঠল। নামটা পড়েই সে বুঝে গিয়েছিল—মায়া।

অনেক বছর আগে, এই বৃষ্টির মধ্যেই ওদের শেষ দেখা হয়েছিল।

আরিফ উত্তর দিল, “হ্যাঁ। পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের পাশে।”

কিছুক্ষণ কোনো রিপ্লাই এল না। বৃষ্টির শব্দ আরও ঘন হয়ে উঠল। তারপর আবার ফোন কাঁপল—
“আমি আসছি।”

আরিফ জানত না কেন, তবু হঠাৎ করে হাত দুটো একটু কাঁপতে লাগল। সময় অনেক কিছু বদলে দেয়, কিন্তু কিছু অনুভূতি সময়ের বাইরে থেকেই যায়।

পনেরো মিনিট পরেই সে ওকে দেখল। হালকা নীল শাড়ি, ভেজা চুল কাঁধে লেগে আছে। চোখে সেই চেনা শান্ত ভাব, অথচ ভেতরে যেন অজানা ঝড়।

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। বৃষ্টি ওদের চারপাশে একটা আলাদা জগৎ তৈরি করে ফেলেছে।

“কেমন আছ?”
মায়ার কণ্ঠটা নরম, কিন্তু তাতে লুকানো ছিল অনেক কথা।

“ভালো… মানে, চলছি।”
আরিফ হাসতে চেয়েও পারল না।

ওরা কাছের একটা চায়ের দোকানের ছাউনির নিচে এসে দাঁড়াল। বৃষ্টির ফোঁটা ছাউনির ধার বেয়ে পড়ছে। দুজনের মাঝে দূরত্ব খুব কম, অথচ কেউ ছুঁয়ে নেই।

“হঠাৎ মনে হলো, তোমাকে একবার দেখা দরকার,” মায়া বলল।
“কেন?”
“কিছু কথা না বললে বোধহয় মনটা শান্ত হচ্ছিল না।”

আরিফ জানত, এই কথার ভেতরে কত বছরের জমে থাকা অনুভূতি লুকিয়ে আছে। ওর দিকে তাকাতেই বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে এলো।

“আমরা কি ভুল করেছিলাম?”
মায়ার প্রশ্নটা বৃষ্টির শব্দের মাঝেও পরিষ্কার শোনা গেল।

আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “হয়তো পরিস্থিতি আমাদের থেকে বড় ছিল।”

মায়া হালকা হাসল। সেই হাসিতে দুঃখ ছিল, আবার স্বস্তিও ছিল।
“তুমি জানো, আজও বৃষ্টি নামলেই তোমার কথা মনে পড়ে?”

এই কথাটুকুই যথেষ্ট ছিল। আর কিছু বলার দরকার পড়ল না। দুজনের মাঝে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো—ভারী, কিন্তু আরামদায়ক।

হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকাল। আলোয় মুহূর্তের জন্য মায়ার মুখটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। সেই মুহূর্তে আরিফ বুঝল, কিছু সম্পর্ক শেষ হয় না—শুধু আলাদা রূপ নেয়।

“আমাকে যেতে হবে,” মায়া আস্তে বলল।
“হ্যাঁ,” আরিফ মাথা নাড়ল।

ওরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েই ছিল, কিন্তু বিদায়টা কোনো স্পর্শ ছাড়াই হলো। মায়া চলে গেল বৃষ্টির ভেতরে মিলিয়ে যেতে যেতে।

আরিফ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে আসছে। মনে হলো, বুকের ভেতরের ভারটাও যেন একটু হালকা হয়েছে।

কিছু স্মৃতি থেকে যায়—ভিজে, নীরব, কিন্তু গভীর।

Next Post
No Comment
Add Comment
comment url