হোস্টেল জীবনে প্রথম ভালোবাসা
👉Link👈
হোস্টেল জীবনে প্রথম ভালোবাসা
প্রথম দিনটাই ছিল অদ্ভুত। বাড়ি থেকে এত দূরে, নতুন শহর, নতুন কলেজ—আর এই বড় হোস্টেল বিল্ডিং। রাফি ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল, সত্যিই কি সে প্রস্তুত?
রুমে ঢুকেই চোখে পড়ল জানালার পাশে বসে থাকা একটা মেয়ে। চুল খোলা, হাতে একটা বই, মুখে অদ্ভুত শান্ত ভাব।
“হাই,” মেয়েটা নিজেই আগে কথা বলল।
“আমি নীলা। এই রুমেই থাকব।”
রাফি একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল, “আমি রাফি।”
এই ছোট্ট পরিচয় থেকেই শুরু। প্রথমে সাধারণ কথা, ক্লাসের সময়, টিচারদের নিয়ে হাসাহাসি। ধীরে ধীরে দুজনের সময় কাটতে লাগল একসাথে।
হোস্টেলের জীবন এমনই—রাত বাড়লেই গল্প জমে। অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন নীলা আর রাফি জানালার পাশে বসে কথা বলত। কখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে, কখনো অতীতের ছোট ছোট স্মৃতি নিয়ে।
এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। পুরো হোস্টেল অন্ধকার। বাইরে জোনাকির মতো কিছু আলো, ভেতরে নীরবতা।
“ভয় লাগছে?” রাফি আস্তে জিজ্ঞেস করল।
নীলা মাথা নাড়ল, “না। তুমি থাকলে না।”
এই কথাটা রাফির বুকের ভেতর অদ্ভুত এক কাঁপুনি তৈরি করল। অন্ধকারে নীলার মুখ দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু ওর উপস্থিতিটা স্পষ্ট অনুভব হচ্ছিল।
সেই রাতের পর থেকে সবকিছু বদলে গেল। কেউ কিছু বলল না, তবু দুজনেই বুঝে গেল—কিছু একটা শুরু হয়েছে।
ক্লাস শেষে একসাথে হাঁটা, ক্যান্টিনে বসে চা খাওয়া, পরীক্ষার আগের রাতে একে অন্যকে সাহস দেওয়া—সবকিছুতেই নীলার উপস্থিতি রাফির কাছে আলাদা লাগত।
একদিন বৃষ্টির মধ্যে দুজনেই হোস্টেলের ছাদে উঠে পড়ল। ভিজে চুল, ঠান্ডা হাওয়া।
নীলা বলল, “জানো, হোস্টেল লাইফ শেষ হলে হয়তো সব বদলে যাবে।”
রাফি চুপ করে রইল। সে জানত, এই মুহূর্তগুলো ধরে রাখা যায় না, তবু ছেড়ে দিতেও মন চায় না।
“কিন্তু এই সময়টা আমাদের,” রাফি বলল।
নীলা হালকা হাসল। সেই হাসিতে লুকানো ছিল ভরসা আর অল্প একটু ভয়।
সেমিস্টার শেষ হয়ে এলো। ছুটির দিন, হোস্টেল ফাঁকা। নীলা ব্যাগ গুছাচ্ছিল।
“আবার দেখা হবে তো?” নীলা জিজ্ঞেস করল।
“হবে,” রাফি বলল, “না হলেও… এই স্মৃতিগুলো তো থাকবে।”
নীলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “এটাই হয়তো প্রথম ভালোবাসা—কম কথা, বেশি অনুভূতি।”
নীলা চলে যাওয়ার পর রাফি একা রুমে বসে রইল। জানালার বাইরে বিকেলের আলো। হোস্টেল জীবনের প্রথম ভালোবাসা ঠিক এমনই—অল্প সময়ের, কিন্তু আজীবনের জন্য মনে গেঁথে যাওয়া।
